ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন এবার রাজপথ পেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টমুখী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী জোট।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি সাক্ষাতের অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আদালতে বিচারাধীন থাকায় সরাসরি বৈঠক করা বিচারিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানানো হয়েছে।
বিরোধীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর বন্ধ করা, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং কথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের তদন্ত। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও তুলেছে তারা।
এদিকে নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। ২০২৩ সালের আইনের ১৬ নম্বর ধারায় দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বর্তমান ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যক্রম আদালতে গ্রহণ বা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই ধারাটির বৈধতা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এরই মধ্যে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের আটক ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। আদালত বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত ব্যক্তিদের আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া আটক করা যাবে না। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার প্রয়োজন ছাড়া মেট্রো, রেল ও ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবারের বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশ প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে। পরে রোববারও বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য ভোটার তালিকা সংশোধনে কোনো পক্ষপাত বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ফলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ এখন একই সঙ্গে রাজপথ ও আদালতে গড়িয়েছে। আজ বিরোধীরা সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগোলে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্যসমূহ