সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত এক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যে গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের তথ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালিয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকসহ একাধিক বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন। হামলার তীব্রতায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি অংশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
হামলাটিকে সম্পূর্ণ ‘বর্বর ও যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট। জোটের এক মুখপাত্র জানান, সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের মতো সুরক্ষিত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হুথিরা স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এ ঘটনায় সৌদি সামরিক জোট রোববার থেকেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর, চূড়ান্ত ও সর্বাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলায় আমেরিকান নাগরিকের নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষায় ওয়াশিংটনের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুথিদের অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে গোষ্ঠীটি। তবে সরাসরি রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এমন বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকটকে নতুন এক বিপজ্জনক সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ