ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকট, ব্যাহত পাঠদান কার্যক্রম

নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকট, ব্যাহত পাঠদান কার্যক্রম
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত শ্রেণি পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন আটটি করে ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক না থাকায় হচ্ছে মাত্র একটি কিংবা দুটি। বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগে মাত্র দুজন নিয়মিত শিক্ষক দিয়ে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান সামাল দিতে হচ্ছে। শুধু ইংরেজি নয়, গণিত ও প্রাণিবিদ্যাসহ অন্যান্য বিভাগেও একই চিত্র বিরাজ করায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাইরে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষে প্রতিদিন আটটি ক্লাস রুটিনে থাকলেও বাস্তবে এক-দুটির বেশি হচ্ছে না। চতুর্থ বর্ষের নয়টি নির্ধারিত ক্লাসের বিপরীতে গড়ে মাত্র একটি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং সম্মান শ্রেণির অন্যান্য ১৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কারণ সম্মান শ্রেণির সব বিভাগের জন্যই ১০০ নম্বরের ইংরেজি বাধ্যতামূলক।

কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকের অনুমোদিত পদ চারটি হলেও সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রায় আট বছর ধরে শূন্য। বিভাগীয় শিক্ষকেরা জানান, একজন সংযুক্ত শিক্ষক ও বাইরে থেকে তিনজন অতিথি শিক্ষক এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও দৈনিক প্রায় ৩৯টি ক্লাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া উচ্চতর ক্লাসে পড়ানোর জন্য মানসম্মত অতিথি শিক্ষকও পাওয়া যাচ্ছে না। গণিত ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র দুজন করে শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে ক্লাস কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বর্তমানে মোট ১৫ হাজার ৪৫৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মানুযায়ী অন্তত ২৩৭ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। অথচ কলেজটিতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ বাদে অনুমোদিত পদই রয়েছে মাত্র ৬৫টি। তার মধ্যে আবার ২৯টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য; অর্থাৎ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৬ জন শিক্ষক।

উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদির ফকির আক্ষেপ করে জানান, দেশের সমপর্যায়ের অন্যান্য সরকারি কলেজে সময়ের সঙ্গে পদ বৃদ্ধি পেলেও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে নতুন পদ সৃষ্টি হয়নি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান জানান, সংকট উত্তরণে ১৭০টি নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রায় দুই বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন পেলে সমস্যা অনেকাংশেই দূর হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটাতে ছাত্রদের জন্য একটি ছয়তলা আবাসিক হল নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

ট্যাগ : নেত্রকোনা সরকারি কলেজ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকট, ব্যাহত পাঠদান কার্যক্রম

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনা সরকারি কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত শ্রেণি পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন আটটি করে ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক না থাকায় হচ্ছে মাত্র একটি কিংবা দুটি। বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগে মাত্র দুজন নিয়মিত শিক্ষক দিয়ে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান সামাল দিতে হচ্ছে। শুধু ইংরেজি নয়, গণিত ও প্রাণিবিদ্যাসহ অন্যান্য বিভাগেও একই চিত্র বিরাজ করায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাইরে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষে প্রতিদিন আটটি ক্লাস রুটিনে থাকলেও বাস্তবে এক-দুটির বেশি হচ্ছে না। চতুর্থ বর্ষের নয়টি নির্ধারিত ক্লাসের বিপরীতে গড়ে মাত্র একটি ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং সম্মান শ্রেণির অন্যান্য ১৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কারণ সম্মান শ্রেণির সব বিভাগের জন্যই ১০০ নম্বরের ইংরেজি বাধ্যতামূলক।

কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকের অনুমোদিত পদ চারটি হলেও সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রায় আট বছর ধরে শূন্য। বিভাগীয় শিক্ষকেরা জানান, একজন সংযুক্ত শিক্ষক ও বাইরে থেকে তিনজন অতিথি শিক্ষক এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও দৈনিক প্রায় ৩৯টি ক্লাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া উচ্চতর ক্লাসে পড়ানোর জন্য মানসম্মত অতিথি শিক্ষকও পাওয়া যাচ্ছে না। গণিত ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র দুজন করে শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে ক্লাস কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বর্তমানে মোট ১৫ হাজার ৪৫৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মানুযায়ী অন্তত ২৩৭ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। অথচ কলেজটিতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ বাদে অনুমোদিত পদই রয়েছে মাত্র ৬৫টি। তার মধ্যে আবার ২৯টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য; অর্থাৎ কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৬ জন শিক্ষক।

উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদির ফকির আক্ষেপ করে জানান, দেশের সমপর্যায়ের অন্যান্য সরকারি কলেজে সময়ের সঙ্গে পদ বৃদ্ধি পেলেও নেত্রকোনা সরকারি কলেজে নতুন পদ সৃষ্টি হয়নি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান জানান, সংকট উত্তরণে ১৭০টি নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রায় দুই বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন পেলে সমস্যা অনেকাংশেই দূর হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট কাটাতে ছাত্রদের জন্য একটি ছয়তলা আবাসিক হল নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ