ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মাওলানা আব্দুল মালেক আমার ইলমী জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি: মামুনুল হক

মাওলানা আব্দুল মালেক আমার ইলমী জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি: মামুনুল হক
ফলো করুন

নিজের শিক্ষক ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের ইলমী অবদান, নিজের সঙ্গে তার শিক্ষাগত সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসে মামুনুল হক লেখেন, ফক্বীহ মাওলানা আব্দুল মালেক শুধু বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আলেম নন, তার দৃষ্টিতে তিনি একজন ক্ষণজন্মা ও অতুলনীয় ইলমি ব্যক্তিত্ব। সমকালে এমন গভীর ও প্রশস্ত ইলমের অধিকারী ব্যক্তি সহসা নজরে পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মাওলানা আব্দুল মালেক ইলমী খেদমত করে আসছেন। উচ্চতর গবেষণামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইলমচর্চাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের সঙ্গে মাওলানা আব্দুল মালেকের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ আমার খাস উস্তাদ।’ তিনি জানান, ২০০২-০৩ সালের দিকে মারকাযুদ দাওয়াহ, মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রায় দেড় বছর মাওলানা আব্দুল মালেকের কাছ থেকে নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান।

তিনি বলেন, ওই সময়ে মাওলানা জাকারিয়া আবদুল্লাহ ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ অনেকে মারকাযুদ দাওয়াহর উলূমুল হাদিস বিভাগে পড়াশোনা করতেন। তিনি নিজেও মাওলানা আব্দুল মালেকের অনুমতি নিয়ে নিয়মিত দরসে অংশ নিতেন এবং মুতালাআর জন্য বিশেষ নির্দেশনা গ্রহণ করতেন।

মামুনুল হক জানান, ওই সময়ে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের কাছে মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহসহ উলূমুল হাদিস ও উলূমুল ফিকহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের দীর্ঘ দরস গ্রহণ করেন। এসব শিক্ষাকে নিজের জ্ঞান ও যোগ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব শুধু আমার শিক্ষকই নন, বরং আমার ছিটেফোঁটা যতটুকু যোগ্যতা বা জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান ভিত এবং স্তম্ভ হলেন মাওলানা আব্দুল মালেক।’

মামুনুল হক মাওলানা আব্দুল মালেককে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, ইলমের গভীরে ডুবন্ত, কিতাবের পাতায় পাতায় বিচরণকারী, দুনিয়াবিমুখ, নির্মোহ ও নির্লোভ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং চলমান বিশ্বব্যবস্থার মতো বিষয়ে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের অনুসরণ করেন না বলেও স্ট্যাটাসে স্পষ্ট করেন। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষকতুল্য অভিভাবক হিসেবে মাওলানা লিয়াকত আলী সাহেবের ওপর তিনি বেশি আস্থা রাখেন বলে জানান।

নিজের ওপর মাওলানা আব্দুল মালেকের অধিকার প্রসঙ্গে মামুনুল হক হযরত আলী (রা.)-এর নামে প্রচলিত একটি উক্তি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, একটি অক্ষরের জ্ঞানের যদি এতটা হক থাকে, তাহলে তার ব্যক্তিজীবনে মাওলানা আব্দুল মালেকের হক ও অধিকার আরও অনেক বেশি।

এ কারণে নিজের ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল মালেক কঠোর বা কড়া কোনো মন্তব্য করলেও তার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন মামুনুল হক।

তিনি বলেন, তার ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল মালেকের কোনো কঠোর মন্তব্যের পর কেউ উপযাজক হয়ে এসে নেতিবাচক মন্তব্য করলে তিনি সেটিকে শিষ্টাচারবহির্ভূত মনে করেন। একই সঙ্গে মাওলানা আব্দুল মালেকের ইলম, আমল, ইখলাস, দুনিয়াবিমুখতা ও নির্মোহতার মতো গুণাবলি নিয়ে কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করলে সেটিকেও তিনি সীমালঙ্ঘন হিসেবে দেখেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে মামুনুল হক সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ সীমারেখা মেনে বিষয়টি অনুধাবনের আহ্বান জানান।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


মাওলানা আব্দুল মালেক আমার ইলমী জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি: মামুনুল হক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিজের শিক্ষক ও বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বুধবার (৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের ইলমী অবদান, নিজের সঙ্গে তার শিক্ষাগত সম্পর্ক এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসে মামুনুল হক লেখেন, ফক্বীহ মাওলানা আব্দুল মালেক শুধু বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আলেম নন, তার দৃষ্টিতে তিনি একজন ক্ষণজন্মা ও অতুলনীয় ইলমি ব্যক্তিত্ব। সমকালে এমন গভীর ও প্রশস্ত ইলমের অধিকারী ব্যক্তি সহসা নজরে পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মাওলানা আব্দুল মালেক ইলমী খেদমত করে আসছেন। উচ্চতর গবেষণামূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইলমচর্চাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের সঙ্গে মাওলানা আব্দুল মালেকের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ আমার খাস উস্তাদ।’ তিনি জানান, ২০০২-০৩ সালের দিকে মারকাযুদ দাওয়াহ, মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রায় দেড় বছর মাওলানা আব্দুল মালেকের কাছ থেকে নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান।

তিনি বলেন, ওই সময়ে মাওলানা জাকারিয়া আবদুল্লাহ ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ অনেকে মারকাযুদ দাওয়াহর উলূমুল হাদিস বিভাগে পড়াশোনা করতেন। তিনি নিজেও মাওলানা আব্দুল মালেকের অনুমতি নিয়ে নিয়মিত দরসে অংশ নিতেন এবং মুতালাআর জন্য বিশেষ নির্দেশনা গ্রহণ করতেন।

মামুনুল হক জানান, ওই সময়ে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের কাছে মুকাদ্দিমায়ে ইবনুস সালাহসহ উলূমুল হাদিস ও উলূমুল ফিকহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের দীর্ঘ দরস গ্রহণ করেন। এসব শিক্ষাকে নিজের জ্ঞান ও যোগ্যতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, ‘মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব শুধু আমার শিক্ষকই নন, বরং আমার ছিটেফোঁটা যতটুকু যোগ্যতা বা জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান ভিত এবং স্তম্ভ হলেন মাওলানা আব্দুল মালেক।’

মামুনুল হক মাওলানা আব্দুল মালেককে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, ইলমের গভীরে ডুবন্ত, কিতাবের পাতায় পাতায় বিচরণকারী, দুনিয়াবিমুখ, নির্মোহ ও নির্লোভ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং চলমান বিশ্বব্যবস্থার মতো বিষয়ে তিনি মাওলানা আব্দুল মালেকের অনুসরণ করেন না বলেও স্ট্যাটাসে স্পষ্ট করেন। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষকতুল্য অভিভাবক হিসেবে মাওলানা লিয়াকত আলী সাহেবের ওপর তিনি বেশি আস্থা রাখেন বলে জানান।

নিজের ওপর মাওলানা আব্দুল মালেকের অধিকার প্রসঙ্গে মামুনুল হক হযরত আলী (রা.)-এর নামে প্রচলিত একটি উক্তি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, একটি অক্ষরের জ্ঞানের যদি এতটা হক থাকে, তাহলে তার ব্যক্তিজীবনে মাওলানা আব্দুল মালেকের হক ও অধিকার আরও অনেক বেশি।

এ কারণে নিজের ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল মালেক কঠোর বা কড়া কোনো মন্তব্য করলেও তার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন মামুনুল হক।

তিনি বলেন, তার ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল মালেকের কোনো কঠোর মন্তব্যের পর কেউ উপযাজক হয়ে এসে নেতিবাচক মন্তব্য করলে তিনি সেটিকে শিষ্টাচারবহির্ভূত মনে করেন। একই সঙ্গে মাওলানা আব্দুল মালেকের ইলম, আমল, ইখলাস, দুনিয়াবিমুখতা ও নির্মোহতার মতো গুণাবলি নিয়ে কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করলে সেটিকেও তিনি সীমালঙ্ঘন হিসেবে দেখেন।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে মামুনুল হক সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ সীমারেখা মেনে বিষয়টি অনুধাবনের আহ্বান জানান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ