ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যু'দ্ধবিরতি সত্ত্বেও গা'জায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন হ'তা'হত: প্রতিবেদন

যু'দ্ধবিরতি সত্ত্বেও গা'জায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন হ'তা'হত: প্রতিবেদন
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও থামেনি ইসরাইলি আগ্রাসন। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন করে ফিলিস্তিনি নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ইসলামিক রিলিফ’। সংস্থাটির বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কথিত যুদ্ধবিরতির বিগত এক বছরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জনই নিষ্পাপ শিশু; অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি সেনাদের ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এমনকি গত ২৪ ঘণ্টাতেও চারজন নিহত ও ২৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সামগ্রিক ইসরাইলি হামলায় অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জনে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরাইলি হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হন এবং খান ইউনিসে একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। একই দিন পশ্চিম তীরের জেনিন সংলগ্ন ইয়ামুন এলাকায় তল্লাশি অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলিবিদ্ধ করে ইসরাইলি বাহিনী।

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা টেনে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ ভূখণ্ড থেকেই ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে ইসরাইল। ফলে অবশিষ্ট মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ২১ লাখ মানুষকে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে গাদাগাদি করে দিন কাটাতে হচ্ছে। উপরন্তু আশ্রয় তৈরির সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে ইসরাইলি বাধা অব্যাহত রয়েছে। গাজার ৮২ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ২০ হাজারের বেশি মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।

ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, কেবল কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দায় এড়ালে চলবে না। নামমাত্র এই যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

সূত্র: আল জাজিরা 

ট্যাগ : গাজা যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিন ইসরাইল সংঘাত

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


যু'দ্ধবিরতি সত্ত্বেও গা'জায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন হ'তা'হত: প্রতিবেদন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও থামেনি ইসরাইলি আগ্রাসন। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন করে ফিলিস্তিনি নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ইসলামিক রিলিফ’। সংস্থাটির বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কথিত যুদ্ধবিরতির বিগত এক বছরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জনই নিষ্পাপ শিশু; অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গড়ে প্রতিদিন অন্তত একটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি সেনাদের ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এমনকি গত ২৪ ঘণ্টাতেও চারজন নিহত ও ২৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সামগ্রিক ইসরাইলি হামলায় অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মোট নিহতের সংখ্যা অন্তত ৭৪ হাজার ২৫৪ জনে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরাইলি হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হন এবং খান ইউনিসে একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। একই দিন পশ্চিম তীরের জেনিন সংলগ্ন ইয়ামুন এলাকায় তল্লাশি অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলিবিদ্ধ করে ইসরাইলি বাহিনী।

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা টেনে গাজার প্রায় ৬৫ শতাংশ ভূখণ্ড থেকেই ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে ইসরাইল। ফলে অবশিষ্ট মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ২১ লাখ মানুষকে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে গাদাগাদি করে দিন কাটাতে হচ্ছে। উপরন্তু আশ্রয় তৈরির সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অতিপ্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে ইসরাইলি বাধা অব্যাহত রয়েছে। গাজার ৮২ শতাংশ অবকাঠামো পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ২০ হাজারের বেশি মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।

ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, কেবল কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে দায় এড়ালে চলবে না। নামমাত্র এই যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

সূত্র: আল জাজিরা 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ