মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালার একটি প্রতিবেদনের বরাতে সোমবার (৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
ওয়ালার প্রতিবেদনে বেনামি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এসব সেনা বিভিন্ন সামরিক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা, পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন, সহায়তা ও লজিস্টিক কার্যক্রম এবং সামরিক সদর দপ্তরের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের নিয়মিত রোটেশনের অংশ হিসেবে সামনে ইসরায়েলে আরও সেনাসদস্য ও যুদ্ধবিমান পৌঁছাতে পারে। তবে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওয়ালাকে জানিয়েছেন, দেশটির প্রতিপক্ষরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে সরাসরি বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি না করেও কীভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করা যায়, সে বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষরা বুঝতে পারছে যে এবার কোনো হামলা বা উসকানির জবাবে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হতে পারে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরান কয়েকটি শর্ত উত্থাপন করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ কূটনৈতিক উপায়ে একটি ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত।
অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সামরিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা।
বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা আল হুদাইদাহ, তাইজ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইয়েমেনে হুথিদের তৎপরতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর প্রস্তুতির খবর সামনে এলো।
মন্তব্যসমূহ