নাটোরের লালপুরে এক তরুণীকে প্রলোভনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন লালপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া ছয় রাস্তার মোড় এলাকার বাসিন্দা আশিক (২২), জোতদৈবকী গ্রামের মো. শাকিল ইসলাম বাঁধন (২০) এবং কাজল (২২)।
লালপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আশিকের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে আশিকের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তরুণী লালপুরের গ্রীন ভ্যালি পার্কে তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। পরে সেখান থেকে একটি অটোরিকশায় করে দুজন লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠের দিকে যান।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আশিক তার দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তরুণীকে কলেজ মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা একটি নির্জন ও পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আশিক ও তার দুই সহযোগী পর্যায়ক্রমে তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় পুরো ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন অভিযুক্ত কাজল—এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার পর তরুণীকে একটি অটোরিকশায় তুলে দিয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ধারণ করা ভিডিওটি তরুণীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। এরপর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে তরুণী বিষয়টি তার এক প্রতিবেশী চাচিকে জানান। পরে তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তারা দ্রুত লালপুর থানায় বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে এবং রোববার রাতেই অভিযুক্ত তিন যুবককে আটক করে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আটক তিন যুবকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্যসমূহ