ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
আলী ফাদাভির ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ইরানের সীমান্ত থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সরে যাওয়া তাদের স্বাভাবিক বা নিজস্ব সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর সামরিক সক্ষমতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন অবস্থান নিতে হয়েছে।
আইআরজিসির এই কমান্ডার আরও দাবি করেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এবং এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও বর্তমানে কোনো মার্কিন নৌযান নেই। তার দাবি, এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি না থাকার ঘটনা নজিরবিহীন।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ফাদাভি। তার ভাষায়, এসব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আইআরজিসির হামলার ক্ষেত্রে ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ’।
তবে আইআরজিসির শীর্ষ এই কমান্ডারের বক্তব্যের পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতাও অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর রাখার অংশ হিসেবে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। ফলে একদিকে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরে সরে যাওয়ার দাবি করা হলেও অন্যদিকে দেশটির বন্দর ও সামুদ্রিক বাণিজ্যকে ঘিরে মার্কিন সামরিক চাপ অব্যাহত থাকার তথ্যও সামনে এসেছে।
মন্তব্যসমূহ