ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জুলাই থেকে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

জুলাই থেকে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ শুরু: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন| ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

চলমান শিক্ষকসংকট নিরসনে আগামী জুলাই থেকে দেশজুড়ে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর বাইরে সরকারি স্কুল-কলেজেও অনেক পদ খালি আছে। এসব শূন্যপদ পূরণে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

রোববার সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রপ্রধানরা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, আইসিটি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক নেই। এতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফল করতে পারছে না। দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় বহু প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়েই পুরো বিদ্যালয় চালাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে। শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. মিলন জানান, এবার বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ এবং পদোন্নতির সমস্যাও সমাধানে কাজ করছে সরকার।

শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের সুযোগ থাকবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের সুযোগ কমিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস বা প্রশ্নফাঁসের গুজব কোনোটিই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করলে সরকার চুপ থাকবে না। পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি, আইনগত ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারি থাকবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি ক্যামেরা থাকবে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

২০০১ সালের নকলবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজের সহযোগিতায় তখন নকল প্রতিরোধ করা হয়েছিল। এবারও সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

সভায় একজন শিক্ষক পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, হাজারো শিক্ষার্থীকে দূরের কেন্দ্রে পাঠানোর চেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষককে কেন্দ্রে স্থানান্তর করা বেশি কার্যকর ও মানবিক হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী প্রস্তাবটির প্রশংসা করেন এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার আশ্বাস দেন।

প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, শুধু পরীক্ষা নয়, দেশের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং চালু করা হবে। শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদানও প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সভায় শিক্ষকসংকট, এমপিও, সরকারিকরণ ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রপ্রধান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শুনে শিক্ষামন্ত্রী ধাপে ধাপে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সবার সহযোগিতা চান।

ট্যাগ : সিলেট শিক্ষক নিয়োগ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জুলাই থেকে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

চলমান শিক্ষকসংকট নিরসনে আগামী জুলাই থেকে দেশজুড়ে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর বাইরে সরকারি স্কুল-কলেজেও অনেক পদ খালি আছে। এসব শূন্যপদ পূরণে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

রোববার সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রপ্রধানরা অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, আইসিটি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক নেই। এতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফল করতে পারছে না। দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় বহু প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও একজন বা দুজন শিক্ষক দিয়েই পুরো বিদ্যালয় চালাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে। শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. মিলন জানান, এবার বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মামলা ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদ এবং পদোন্নতির সমস্যাও সমাধানে কাজ করছে সরকার।

শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের সুযোগ থাকবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের সুযোগ কমিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস বা প্রশ্নফাঁসের গুজব কোনোটিই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করলে সরকার চুপ থাকবে না। পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি, আইনগত ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারি থাকবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে বডি ক্যামেরা থাকবে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

২০০১ সালের নকলবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজের সহযোগিতায় তখন নকল প্রতিরোধ করা হয়েছিল। এবারও সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

সভায় একজন শিক্ষক পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, হাজারো শিক্ষার্থীকে দূরের কেন্দ্রে পাঠানোর চেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষককে কেন্দ্রে স্থানান্তর করা বেশি কার্যকর ও মানবিক হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী প্রস্তাবটির প্রশংসা করেন এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার আশ্বাস দেন।

প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি প্রসঙ্গে ড. মিলন বলেন, শুধু পরীক্ষা নয়, দেশের প্রতিটি জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি সরাসরি পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং চালু করা হবে। শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদানও প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সভায় শিক্ষকসংকট, এমপিও, সরকারিকরণ ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেন্দ্রপ্রধান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য শুনে শিক্ষামন্ত্রী ধাপে ধাপে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সবার সহযোগিতা চান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ