লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে রায়পুরের প্রধান সড়ক, হায়দরগঞ্জ, মোল্লারহাট, খাসেরহাট, বাসাবাড়ী, রাখালিয়া, মীরগঞ্জ, নতুনবাজার, গাজিনগর ও মিতালি বাজার এলাকায় সরেজমিন ঘুরে সরকারের নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের মানুষ। একই সঙ্গে বাড়তি দামে এলপিজি কিনতে হওয়ায় ছোট খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ এলপিজিনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তাদের জিম্মি করা হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
গ্রাহকরা জানান, গত মাসেও রায়পুরের অধিকাংশ দোকানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হতো। কিন্তু গত কয়েক দিনে সেই দাম বেড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকার দুই ব্যবসায়ী জানান, বিভিন্ন গোডাউনে পর্যাপ্তসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও খুচরা বাজারে সংকটের কথা বলা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে রায়পুর নতুন বাজার, মিতালি বাজার ও বাসটার্মিনাল এলাকার কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছেন না। তাদেরই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এ কারণে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে এলপিজির বাড়তি দাম নিয়ে রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার।
তিনি বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলপিজির বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে একদিকে যেমন সাধারণ গ্রাহকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে এলপিজিনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি তদারকির মাধ্যমে এ সংকটের কারণ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
মন্তব্যসমূহ