আবুধাবিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠকে ১০টি দেশের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমিরাতি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম ধাপে নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বৈঠক করেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় একটি সম্প্রসারিত বৈঠক। এতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, মরক্কো, মিসর, কুয়েত, বাহরাইন, লিবিয়া ও ওমানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইসরাইল ও আমিরাতের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ‘অভিন্ন হুমকি’ মোকাবিলায় একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ইরান ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ঘিরে বিভিন্ন পদক্ষেপ, সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহায়তা এবং নতুন একটি আঞ্চলিক জোট গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে বলে চ্যানেল ১৪ জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য একটি বিকল্প রুট তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তবে চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে যেসব দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেসব দেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকেও সম্প্রসারিত বৈঠকে ১০ দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াম জানিয়েছিল, রোববার আমিরাত সফরের সময় শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ও তার আমিরাত সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ১০ দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে সম্প্রসারিত বৈঠক এবং সেখানে আলোচিত বিষয়গুলোর তথ্য মূলত চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের ওপর ভিত্তি করে এসেছে।
ফলে বৈঠকে ১০ দেশের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ, আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো বা তেল পরিবহনের বিকল্প রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ