রমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই অবস্থান জানায় দেশটি।
শুক্রবার (২৬ জুন) ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভূমিকাকে উপেক্ষা করে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, অস্পষ্ট ব্যবস্থা বা বিকল্প রুটের মাধ্যমে এ জলপথ পরিচালনার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্য দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা একক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই অবাধ ও নিঃশর্ত নৌ চলাচলের আহ্বান জানায়। ওই বিবৃতিকে ‘হস্তক্ষেপমূলক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিই অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। তারা সতর্ক করে বলেছে, এ অঞ্চলে ‘বৈরী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতি’ অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
ওমানের কাছাকাছি একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলার জন্য ইরান দায়ী। তবে ইরান বলেছে, তাদের অনুমোদিত রুটের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায় সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিক ও পরিচালকদের।
এ ঘটনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে International Maritime Organization। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ