জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করা দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন এক ইসরায়েলি কূটনীতিক। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব এমিরেটসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশের নেতাদের কেউ কেউ নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে এবং কেউ কেউ বক্তব্য চলাকালে অধিবেশনস্থল ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ইসরায়েলি কূটনীতিক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলের সারিগুলোর মাঝ দিয়ে হাঁটছেন এবং বেরিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিনিধিদলের তালিকা করছেন।
ভয়েস অব এমিরেটস জানিয়েছে, ইসরায়েলি কূটনীতিকের এভাবে নোট নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একজন পর্যবেক্ষক রসিকতা করে লিখেছেন, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় শতাধিক প্রতিনিধি হল ছেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ঠিক কারা বেরিয়ে গেছেন, তা যাচাই করতে দেখা গেছে। তার মন্তব্য, ইসরায়েলের উচিত অতিরিক্ত কাগজ সঙ্গে রাখা, কারণ নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্ত দেশগুলোর তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও দুয়োধ্বনি শোনা যায়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল এবং ওপরের গ্যালারিতে থাকা কিছু দর্শকের কাছ থেকে করতালি শোনা যায়।
নেতানিয়াহু ভাষণ শুরুর আগেই হল ছেড়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আর কোনো কাপুরুষ যদি এখনো হল ছেড়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে এখনই বেরিয়ে যেতে পারেন।
তবে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জনকারী দেশের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি তার বক্তব্য শোনেননি। আবার কোথাও এ সংখ্যা ৭৭ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে খালি আসন দেখেই কোনো দেশ নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নিয়ে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর সময় থেকেই কোনো কোনো দেশের আসন খালি ছিল। ফলে কোনো প্রতিনিধিদল আগে থেকেই অনুপস্থিত ছিল, নাকি নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিবাদে হল ছেড়ে গেছে—শুধু আসন খালি থাকার ভিত্তিতে তা নিশ্চিত করা যায় না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্মেলনস্থলে উপস্থিত প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কলম্বিয়া, আজারবাইজান ও গ্রিস ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও হলে ছিলেন।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতই একমাত্র দেশ, যারা নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় হল থেকে বেরিয়ে যায়নি।
এদিকে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ বা কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় হল ছেড়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিনিধিদলের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংখ্যা ও তালিকার মধ্যে পার্থক্য থাকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ