ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ প্রস্তাব
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মিয়ানমারে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। এই সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা এবং এর স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইন বৈঠকে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ব্যয় প্রতিদিনই বাড়ছে—শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারে তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ নৌপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, একটি দেশে অমীমাংসিত থাকা সংকট পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে তাদের এই বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, যা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল হয়।

দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তৃতীয় প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে স্থানীয় জনগণের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাও কাজ করছে। এসব আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাকে অব্যাহত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

পঞ্চম প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে এসব পদক্ষেপকে জরুরি হিসেবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতিকে এখন কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।

ট্যাগ : তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। এই সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা এবং এর স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইন বৈঠকে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ব্যয় প্রতিদিনই বাড়ছে—শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, কক্সবাজারে তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও। এর ফলে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও হতাশা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসী পাচার, মাদকপাচার ও অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ নৌপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, একটি দেশে অমীমাংসিত থাকা সংকট পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে তাদের এই বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম প্রস্তাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, যা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল হয়।

দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তৃতীয় প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে স্থানীয় জনগণের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাও কাজ করছে। এসব আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাকে অব্যাহত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

পঞ্চম প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে এসব পদক্ষেপকে জরুরি হিসেবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতিকে এখন কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ