আলোচনা ও কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে তেহরান আলোচনায় বসবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান এ অবস্থান তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরান সংলাপ ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে আলোচনার সঙ্গে হুমকি যুক্ত থাকলে তা গ্রহণ করবে না ইরান। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো মাথা নত করব না।’
পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ছাড়া আলোচনা হলে ইরান তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে কোনো ধরনের চাপের কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
ভাষণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরাইলের সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির স্বাক্ষরকারী নয়। অথচ ইরানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পাঠানোর দাবি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা (ইসরায়েলিরা) হত্যা করে, আর আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, আমাদের শাস্তি দেওয়া হয়।’
গাজা যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইসরাইল গাজায় ৭০ হাজারের বেশি নিরপরাধ মানুষকে ‘নৃশংসভাবে হত্যা করেছে’। তিনি বলেন, ইরান যখন আলোচনার টেবিলে ছিল, তখনও দেশটির ওপর বোমা হামলা চালানো হয়েছে।
পেজেশকিয়ান আবারও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের ‘অন্তর্নিহিত অধিকার’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা মাথা নত করব না এবং যে অধিকার আমাদের সহজাতভাবে রয়েছে, তা ছেড়ে দেব না।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলছি, পারমাণবিক অস্ত্র আমরা বানাচ্ছি না। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও মেনে নেব না।’
জাতিসংঘে দেওয়া পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার প্রতি ইরানের আগ্রহের কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে হুমকি ও চাপের মাধ্যমে কোনো সমঝোতা মেনে না নেওয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে।