ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির পথে এগিয়েছে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এটিকে স্থায়ী সমাধান নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, এই উদ্যোগ দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার আশা, বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে পারবেন এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কেবল সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে লেবাননের জন্য ১০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং তার প্রভাব লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার দাবি করেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে নতুন এক শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

শুক্রবারই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে হিজবুল্লাহর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের মনসুরি এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে লিফলেট ছড়িয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এমন সামরিক পদক্ষেপ নতুন করে চুক্তির কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির পথে এগিয়েছে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এটিকে স্থায়ী সমাধান নয়, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার সুযোগ থাকবে। অন্যদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, এই উদ্যোগ দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার আশা, বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে পারবেন এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কেবল সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ ফর লেবানন’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে লেবাননের জন্য ১০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং তার প্রভাব লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার দাবি করেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে নতুন এক শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

শুক্রবারই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে হিজবুল্লাহর একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের মনসুরি এলাকায় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে লিফলেট ছড়িয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এমন সামরিক পদক্ষেপ নতুন করে চুক্তির কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র : রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ