তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে বিনামূল্যে প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি-ম্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের স্বাস্থ্যখাতে ভূমিকা, প্রত্যাশা ও করণীয়’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। একই সঙ্গে পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগের কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পেশাগত সমস্যা সমাধানে ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ডি-ম্যাবের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের জন্য সরকারিভাবে সৃষ্ট প্রায় ৩ হাজার ২০০ শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ ও পদায়নের দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার কথা জানান।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতেও প্রশিক্ষিত জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সম্মেলনে ডি-ম্যাব নেতারা সরকারের এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনায় প্রায় ৩৫ হাজার বেকার ডিএমএফ ডিগ্রিধারীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের প্রায় ৩ হাজার ২০০ শূন্য পদ দ্রুত পূরণের দাবি তোলা হয়।
এসব দাবির বিষয়ে মন্ত্রী যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। ডি-ম্যাবের আহ্বায়ক মো. শহীদুল্লাহ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।