ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পাঁচ বছর পেরিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সম্ভাবনার সঙ্গে নানা চ্যালেঞ্জ

পাঁচ বছর পেরিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সম্ভাবনার সঙ্গে নানা চ্যালেঞ্জ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

উত্তরাঞ্চলে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।

২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি মঙ্গলবার ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।

২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমিত জনবল নিয়েই একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় সভাও সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ব্যাচের ফল প্রকাশের পাশাপাশি পরবর্তী ব্যাচগুলোর পাঠদান ও ভর্তি কার্যক্রমও এগোচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় এই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল ৯৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

গবেষণায় স্থানীয় কৃষির সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলে ধান ও ফুলকপি চাষ নিয়ে গবেষণার জন্য সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, চরাঞ্চলের মাটি ও প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনায় এই গবেষণা পরিচালিত হবে। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উন্নত বীজ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে কৃষিতত্ত্ব ও মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে কৃষির বাস্তব পরিস্থিতির সংযোগ তৈরিতে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণেও আলোচনা ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে নবান্ন উৎসব ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদক ও র‌্যাগিং প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনারের পাশাপাশি আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাষা ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, যুক্তিভিত্তিক চিন্তার বিকাশে ডিবেটিং ক্লাব এবং সামাজিক সেবায় অংশগ্রহণের জন্য স্কাউটিং কার্যক্রমও চলছে।

তবে অবকাঠামো ও জনবলসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এখনো প্রতিষ্ঠানটির সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা ও গবেষণার চলমান উদ্যোগগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে এসব সংকট মোকাবিলার প্রয়োজন রয়েছে।

ট্যাগ : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃষিশিক্ষা

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাঁচ বছর পেরিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সম্ভাবনার সঙ্গে নানা চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

উত্তরাঞ্চলে কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।

২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি মঙ্গলবার ষষ্ঠ বছরে পদার্পণ করল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।

২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমিত জনবল নিয়েই একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় সভাও সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ব্যাচের ফল প্রকাশের পাশাপাশি পরবর্তী ব্যাচগুলোর পাঠদান ও ভর্তি কার্যক্রমও এগোচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় এই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল ৯৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

গবেষণায় স্থানীয় কৃষির সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলে ধান ও ফুলকপি চাষ নিয়ে গবেষণার জন্য সাউথইস্ট ব্যাংকের কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, চরাঞ্চলের মাটি ও প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনায় এই গবেষণা পরিচালিত হবে। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উন্নত বীজ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে কৃষিতত্ত্ব ও মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হচ্ছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের সঙ্গে কৃষির বাস্তব পরিস্থিতির সংযোগ তৈরিতে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণেও আলোচনা ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে নবান্ন উৎসব ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদক ও র‌্যাগিং প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সেমিনারের পাশাপাশি আবাসিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাষা ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, যুক্তিভিত্তিক চিন্তার বিকাশে ডিবেটিং ক্লাব এবং সামাজিক সেবায় অংশগ্রহণের জন্য স্কাউটিং কার্যক্রমও চলছে।

তবে অবকাঠামো ও জনবলসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এখনো প্রতিষ্ঠানটির সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা ও গবেষণার চলমান উদ্যোগগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে এসব সংকট মোকাবিলার প্রয়োজন রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ