ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান ১১ দলীয় জোটের

সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান ১১ দলীয় জোটের
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সংসদীয় বিশেষ কমিটির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের এ অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

লিখিত বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কার এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল।

তার দাবি, ওই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবেই মত দেয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াতেও সম্মতি দিয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণকে তারা সমর্থন করেন না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য একই ব্যক্তি হতে পারেন। তবে দুটি প্রতিষ্ঠানের আইনগত পরিচয়, ক্ষমতার উৎস ও দায়িত্বের ধরন আলাদা বলে ১১ দলীয় ঐক্য মনে করে।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের সংশোধনী ক্ষমতার সীমা নিয়েও নিজেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরে জোটটি। গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, শুধু সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকাই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের ক্ষমতার উৎস ও জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটও বিবেচনায় নিতে হবে।

জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয় রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ও সংস্কার প্রস্তাবের অংশ বলে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করা; গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সংস্কারের উদ্যোগ থেকে সরে আসা; নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করা; জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে মৌলিক কাঠামোসংশ্লিষ্ট পরিবর্তন না আনা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য ও গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনগত ভিত্তি নিয়েও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন গোলাম পরওয়ার। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ‘আইন’-এর সংজ্ঞা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশের আইনগত কার্যকারিতা রয়েছে এবং সেটিই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ভিত্তি হতে পারে।

তার মতে, এখনো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদ কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাম্প্রতিক ঢাকা-রংপুর লং মার্চে সহযোগিতা করায় গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান গোলাম পরওয়ার। কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগ : ১১ দলীয় জোট মিয়া গোলাম পরওয়ার জুলাই সনদ

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি প্রত্যাখ্যান ১১ দলীয় জোটের

প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সংসদীয় বিশেষ কমিটির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের এ অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

লিখিত বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কার এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের গেজেটের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল।

তার দাবি, ওই গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাবেই মত দেয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াতেও সম্মতি দিয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণকে তারা সমর্থন করেন না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য একই ব্যক্তি হতে পারেন। তবে দুটি প্রতিষ্ঠানের আইনগত পরিচয়, ক্ষমতার উৎস ও দায়িত্বের ধরন আলাদা বলে ১১ দলীয় ঐক্য মনে করে।

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের সংশোধনী ক্ষমতার সীমা নিয়েও নিজেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরে জোটটি। গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, শুধু সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকাই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনের ক্ষমতার উৎস ও জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটও বিবেচনায় নিতে হবে।

জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয় রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ও সংস্কার প্রস্তাবের অংশ বলে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত ও গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করা; গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সংস্কারের উদ্যোগ থেকে সরে আসা; নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করা; জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে মৌলিক কাঠামোসংশ্লিষ্ট পরিবর্তন না আনা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্য ও গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনগত ভিত্তি নিয়েও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন গোলাম পরওয়ার। সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ‘আইন’-এর সংজ্ঞা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশের আইনগত কার্যকারিতা রয়েছে এবং সেটিই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ভিত্তি হতে পারে।

তার মতে, এখনো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদ কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে সাম্প্রতিক ঢাকা-রংপুর লং মার্চে সহযোগিতা করায় গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান গোলাম পরওয়ার। কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ