ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলো হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর সেখানে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত তৎপরতা বেড়েছে বলে দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আইন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন ইরানি বিশেষজ্ঞরা।
আল-আইনের ভাষ্য অনুযায়ী, হুথিরা পশ্চিম উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ইরান ওই এলাকাকে নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাববলয়ের অংশ হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা শুরু করে। গত ১১ সেপ্টেম্বর দ্রুত অভিযানে হুথিরা মোকা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এ পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে ইরান। তবে কী ধরনের রাডার স্থাপন করা হয়েছে, কোথায় স্থাপন করা হয়েছে বা এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ রয়েছে কি না—সেসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
আল-আইন আরও দাবি করেছে, সোমালিয়ার উপকূল থেকে সমুদ্রপথে ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাচ্ছে। হোদেইদাভিত্তিক রেড সি ফিশারিজ অথরিটির প্রধান হাসান আল-আত্তাস এসব চালান তদারক করছেন বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, আল-আত্তাসের নেতৃত্বে একটি চোরাচালান নেটওয়ার্ক কাজ করছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরান থেকে হোদেইদায় সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছানোর পর তা হুথিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
হুথিরা দখল করা পশ্চিম উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। সরকারি বাহিনীর সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার অভিযান ঠেকাতে পাহাড়ি এলাকায় পরিখা খনন, উপকূলীয় এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নতুন স্থাপনা তৈরির কথা বলা হয়েছে।
হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছে জুকার দ্বীপেও তৎপরতা বাড়ানোর অভিযোগ করেছে আল-আইন। পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় ইরানি বিশেষজ্ঞদের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন এবং হুথি ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি করা হয়েছে।
তবে রাডার স্থাপন, অস্ত্র পাচার ও ইরানি বিশেষজ্ঞদের সফরসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। ইরান বা হুথি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।