দেশের রাস্তাঘাটে নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ দাবি জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাস্তায় চলাচলের সময় নারীরা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, পরিস্থিতির দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, তিনি নিজেকে অতীতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। সে জায়গা থেকে ন্যূনতম দায়বদ্ধতা থাকলে তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের দাবিতেই তাদের এই কর্মসূচি। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটের ফল নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একটি ভোটের ফলের ভিত্তিতে সরকার গঠন হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ বলেন, জনগণের দেওয়া ওই রায় কার্যকর করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
সরকারের সাত মাসের মাথায় লংমার্চ আয়োজন নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। তার ভাষ্য, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই তারা শুরু থেকে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছেন। সরকারকে সময় পেতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। অপ্রতিমের জন্য দোয়া করে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কয়েক হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে এবং তাদের অনেকের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান বা সূত্র তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেননি।
বগুড়ার মানুষের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য রংপুরের দিকে যাচ্ছে এবং তাদের আট দফা দাবির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামনে আরও আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তারা অতীতের মতো রাজপথে থাকবেন এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে সন্ত্রাস, দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।