পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হঠাৎ তৈরি হয়নি। এর পেছনে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ছাত্র-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘৫ আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদেরকে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ আগস্ট আসেনি। এই ৫ আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণীরা মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করে এই প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।’
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন বিরোধীদল উপস্থিত হয়নি। প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধীদল প্রতিমুহূর্তে সরকারি দলকে সব ধরনের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই অসহযোগিতার কারণে কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়। যদি বিরোধীদল এই সুযোগটা না দিতো, লং মার্চ যদি না করতো, তাহলে এই সুযোগটা পেতো না।’
ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপিকে একটা চাপে রেখে তারা (বিরোধী দল) ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। এভাবে কি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা যায় নাকি? এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে। ভোটের এক সপ্তাহ আগে হাতের ভেতর আইডি কার্ড নিয়ে টাকা দিয়ে কিছু ভোট নিয়েছে। আমাদের কিছু মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে কিছু ভোট নিয়েছে। এজন্য ভবিষ্যতে আমাদেরকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।’
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে অনুষ্ঠানে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়নি।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি করবে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার এটা মেনে নেবে না। কারণ আমরা জনগণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসেছি।’
গত জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আমরা এই দেশের দায়িত্ব পেয়েছি, দায়িত্ব পরিচালনা করছি।’
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।