ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ চালু হচ্ছে ১ অক্টোবর: মীর শাহে আলম

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ চালু হচ্ছে ১ অক্টোবর: মীর শাহে আলম
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নয়, পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

মীর শাহে আলমের মতে, সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে উদাহরণ তৈরি করতে হবে। সরকারি পর্যায়ে এর ব্যবহার দৃশ্যমান হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এ কার্যক্রমের জন্য মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এক ঘণ্টার ব্যাকআপ সুবিধাসহ ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। এ হিসাব বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি কমপ্লেক্সের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব ভবনে আসেন। একইভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজারেও নিয়মিত মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকে।

এসব স্থানে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার দেখতে পারবেন। এর ফলে তারা নিজেদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনাতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকার বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি প্রকল্প থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াট, কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট এবং বাগেরহাটের মোংলায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প রয়েছে। ঈশ্বরদীতে আরও ৭০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার, নীলফামারী, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

এর পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌরবিদ্যুৎ মীর শাহে আলম

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ চালু হচ্ছে ১ অক্টোবর: মীর শাহে আলম

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নয়, পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

মীর শাহে আলমের মতে, সাধারণ মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে উদাহরণ তৈরি করতে হবে। সরকারি পর্যায়ে এর ব্যবহার দৃশ্যমান হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এ কার্যক্রমের জন্য মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এক ঘণ্টার ব্যাকআপ সুবিধাসহ ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হতে পারে। এ হিসাব বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি কমপ্লেক্সের জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্র। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব ভবনে আসেন। একইভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজারেও নিয়মিত মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকে।

এসব স্থানে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার দেখতে পারবেন। এর ফলে তারা নিজেদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনাতেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকার বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি প্রকল্প থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াট, কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট এবং বাগেরহাটের মোংলায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প রয়েছে। ঈশ্বরদীতে আরও ৭০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার, নীলফামারী, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

এর পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ