ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্যপণ্য, চালু ভাসমান বাজার

বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্যপণ্য, চালু ভাসমান বাজার
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করতে চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কার্যক্রম শুরু করেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সোয়ারীঘাট লঞ্চঘাটে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

কর্মসূচির আওতায় বুড়িগঙ্গা ও নদীর তীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে জমা দেওয়া যাবে। সংগৃহীত বর্জ্যের পরিমাণ অনুযায়ী বিনিময়ে চাল, ডাল, আটা, তেল, মাছ, মুরগি, নুডলসসহ বিভিন্ন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হচ্ছে। একটি লঞ্চকে অস্থায়ী বাজারে রূপান্তর করে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, বুড়িগঙ্গাকে কেন্দ্র করেই পুরান ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা বিকশিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল ও অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে নদীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একটি কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য নদীতীরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নদী রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে পুনরুজ্জীবিত এবং নৌ চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো কাজ করছে।

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আবদুস সালাম বলেন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে এ কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও জানান প্রশাসক। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধেও নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাসাবাড়ির ছাদ, এসি, ডাবের খোসা, ড্রেন কিংবা অন্য কোনো স্থানে যাতে দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ কার্যক্রমটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কামরাঙ্গীরচরে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এ ছাড়া ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : ডিএসসিসি বুড়িগঙ্গা

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য দিলেই মিলছে নিত্যপণ্য, চালু ভাসমান বাজার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করতে চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কার্যক্রম শুরু করেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সোয়ারীঘাট লঞ্চঘাটে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

কর্মসূচির আওতায় বুড়িগঙ্গা ও নদীর তীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে জমা দেওয়া যাবে। সংগৃহীত বর্জ্যের পরিমাণ অনুযায়ী বিনিময়ে চাল, ডাল, আটা, তেল, মাছ, মুরগি, নুডলসসহ বিভিন্ন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হচ্ছে। একটি লঞ্চকে অস্থায়ী বাজারে রূপান্তর করে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, বুড়িগঙ্গাকে কেন্দ্র করেই পুরান ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা বিকশিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল ও অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে নদীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একটি কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য নদীতীরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নদী রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে পুনরুজ্জীবিত এবং নৌ চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো কাজ করছে।

বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আবদুস সালাম বলেন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে এ কার্যক্রমের প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও জানান প্রশাসক। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধেও নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বাসাবাড়ির ছাদ, এসি, ডাবের খোসা, ড্রেন কিংবা অন্য কোনো স্থানে যাতে দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ কার্যক্রমটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কামরাঙ্গীরচরে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এ ছাড়া ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ