শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্যে পরিবেশ, জলাশয় ও কৃষিজমির ক্ষতি রোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি টিম গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, নতুন করে কোনো কারখানার দূষিত বর্জ্য যাতে কৃষিজমি, খাল, নদী বা জলাশয়ে না যায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে দূষণের সঙ্গে জড়িত কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও উত্তরণে করণীয় বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি দূষণ রোধে শিল্পকারখানাগুলোতে বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অবস্থাতেই অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য খাল, নদী, জলাশয় কিংবা কৃষিজমিতে ফেলা যাবে না।
তিনি বলেন, ভালুকার শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি, বিশেষ করে পানিনির্ভর পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিদর্শনে বিভিন্ন কারখানার দূষিত বর্জ্যে আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, ভরাডোবা এলাকার এক্সপেরিয়েন্স, হ্যারী ফ্যাশন ও মুলতাজিম নামের তিনটি কারখানার বর্জ্যের কারণে প্রায় সাড়ে তিনশ একর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব কারখানার দূষণ এখনই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। দূষিত বর্জ্যের পানি নির্গমনের নালাগুলো দ্রুত সিলগালা করতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডাইং কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন ছাড়া জলাশয়ে ফেললে পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনে কেউ গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুজলা-সুফলা জনপদকে বিরানভূমিতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।