ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হংকংয়ে পোশাকের বাইরে নতুন পণ্য রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

হংকংয়ে পোশাকের বাইরে নতুন পণ্য রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তাজা ফল, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ হংকং থেকে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন উন্নতমানের ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল পাটপণ্যের জন্য হংকংয়ের গ্রিন রিটেইল এবং ডিজাইন খাতে নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ সহজ করতে ভর্তুকিযুক্ত প্রদর্শনী সুবিধা, ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যৌথ লজিস্টিকস সুবিধা উন্নয়নের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর নতুন বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দক্ষিণ চীন ও গ্রেটার বে এরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে হংকংকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায়।

এইচকেটিডিসির নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চং বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার আরও সুযোগ রয়েছে।

বৈঠক শেষে সোফিয়া চংয়ের নেতৃত্বে এইচকেটিডিসির একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

ট্যাগ : বাংলাদেশ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির হংকং

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


হংকংয়ে পোশাকের বাইরে নতুন পণ্য রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এইচকেটিডিসি) নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তাজা ফল, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্যসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ হংকং থেকে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, বিপরীতে রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি সামান্য বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন উন্নতমানের ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল পাটপণ্যের জন্য হংকংয়ের গ্রিন রিটেইল এবং ডিজাইন খাতে নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ সহজ করতে ভর্তুকিযুক্ত প্রদর্শনী সুবিধা, ইলেকট্রনিক সার্টিফিকেট অব অরিজিন চালু, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যৌথ লজিস্টিকস সুবিধা উন্নয়নের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর নতুন বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দক্ষিণ চীন ও গ্রেটার বে এরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে হংকংকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে চায়।

এইচকেটিডিসির নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চং বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার আরও সুযোগ রয়েছে।

বৈঠক শেষে সোফিয়া চংয়ের নেতৃত্বে এইচকেটিডিসির একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ