সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির প্রভাবে ঢাকা থেকে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত দুই গন্তব্যের মোট ১৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে। এতে ভ্রমণসূচি বিপর্যস্ত হয়েছে ২২ হাজার ২৩১ জন যাত্রীর।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৯টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট। ফলে শুধু ঢাকা থেকে সরাসরি সৌদি আরবগামী যাত্রীরাই নন, অন্য দেশে যাত্রাবিরতি করে রিয়াদ ও দাম্মামে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও বিপাকে পড়েছেন।
বেবিচক সূত্রের হিসাবে, সরাসরি বাতিল হওয়া ৬৯টি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের।
এ ছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৯টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১১টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের পূর্বনির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিঘ্ন ঘটেছে।
সব মিলিয়ে ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি এবং কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি ফ্লাইট রয়েছে।
এ ছাড়া ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের ঢাকা থেকে অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে রিয়াদ কিংবা দাম্মামে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ট্রানজিট গন্তব্য থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঢাকা থেকেও তাঁদের পরিবহন করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে দাম্মামেও হামলার ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই গন্তব্যে উড়োজাহাজ চলাচল সীমিত করেছে।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিমান সংস্থাটির ২২ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় রিয়াদ রুটে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং দাম্মাম রুটে ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবরের ফ্লাইট বাতিলের তথ্য রয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারেন।
এদিকে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হবে।
ফলে রিয়াদ ও দাম্মামগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্তব্যসমূহ