গোপালগঞ্জে মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিওও দেখা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, খেয়াঘাট এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। ওই সময় সেখানে টহলরত পুলিশ সদস্যরা হামলার শিকার হন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের সদস্যসংখ্যা তুলনামূলক কম থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাদের (পুলিশের) সংখ্যা কম ছিল, যার কারণে তারা আক্রমণের শিকার হয়েছে। আমরা ভিডিওটিও দেখেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেটা আপনারা (সাংবাদিক) জানতে পারবেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল নিয়ে একটি মোড়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক ও ফালি করা কাঠও ছিল।
ওই মোড়ের কাছে পুলিশের একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ির ভেতরে চালক এবং বাইরে তিন পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। তাঁদের একজন মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। একই সময় তাঁকে হাত নেড়ে মিছিলকারীদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে মিছিল থেকে কয়েকজন পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর শুরু করেন। তখন চালক গাড়িটি সামনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মিছিলকারীদের কয়েকজন গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে ভাঙচুর চালাতে থাকেন।
পরে কয়েকজন যুবক পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হন। এক পুলিশ সদস্যকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে মিছিলে থাকা কয়েকজনকে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টাও করতে দেখা গেছে। তবে তাঁদের সেই প্রচেষ্টার মধ্যেও পুলিশ সদস্যদের মারধর চলতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সদর থানা-পুলিশের একটি দল নিয়মিত টহলের সময় রঘুনাথপুরের খেয়াঘাট এলাকায় অবস্থান করছিল। তখন মিছিলকারীরা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালান।
ঘটনার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ