ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দরিদ্র মেধাবীদের উচ্চশিক্ষায় ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে: সংসদে প্রতিমন্ত্রী

দরিদ্র মেধাবীদের উচ্চশিক্ষায় ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে: সংসদে প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যন্ত ও অনুন্নত এলাকার মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ৩ শতাংশ সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান।

জয়নাল আবেদিন তার প্রশ্নে জানতে চান, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে মোট আসনের ৩ শতাংশ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়। এই আসনগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নকালীন টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে।

এর বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনা করে বৃত্তি ও টিউশন ফি কমানোর ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষিত আসন, ফি মওকুফ ও বৃত্তির বিধানগুলো যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে তদারকি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, যোগ্য শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তি ও ফি মওকুফের তথ্য প্রকাশের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় জয়নাল আবেদিন সম্পূরক প্রশ্নে অভিযোগ করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিভিন্ন শর্ত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। তার দাবি, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যাপ্ত ক্যাম্পাস ও গবেষণার পরিবেশ ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। এ কারণে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা এবং পর্যাপ্ত ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা নেই—এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, তা জানতে চান সংসদ সদস্য।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। সংসদ সদস্য নোটিশ দিলে প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ উত্তর দেওয়া হবে।

অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, আবাসিক সুবিধা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণা অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে ওঠেনি। পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ও ব্রাহ্মণকাঠি মৌজায় ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ আবাসিক সুবিধা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণা কার্যক্রম কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, তা জানতে চান সংসদ সদস্য।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর দিতে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য নোটিশ দিলে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করে উত্তর দেওয়া হবে।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ ববি হাজ্জাজ উচ্চশিক্ষা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দরিদ্র মেধাবীদের উচ্চশিক্ষায় ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে: সংসদে প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যন্ত ও অনুন্নত এলাকার মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ৩ শতাংশ সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান।

জয়নাল আবেদিন তার প্রশ্নে জানতে চান, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে মোট আসনের ৩ শতাংশ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়। এই আসনগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নকালীন টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে।

এর বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনা করে বৃত্তি ও টিউশন ফি কমানোর ব্যবস্থা করে থাকে। ফলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষিত আসন, ফি মওকুফ ও বৃত্তির বিধানগুলো যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে তদারকি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া সুবিধাভোগী শিক্ষার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, যোগ্য শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তি ও ফি মওকুফের তথ্য প্রকাশের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় জয়নাল আবেদিন সম্পূরক প্রশ্নে অভিযোগ করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিভিন্ন শর্ত থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না। তার দাবি, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যাপ্ত ক্যাম্পাস ও গবেষণার পরিবেশ ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে। এ কারণে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা এবং পর্যাপ্ত ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা নেই—এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, তা জানতে চান সংসদ সদস্য।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। সংসদ সদস্য নোটিশ দিলে প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ উত্তর দেওয়া হবে।

অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, আবাসিক সুবিধা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণা অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে ওঠেনি। পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ও ব্রাহ্মণকাঠি মৌজায় ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

স্থায়ী আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ আবাসিক সুবিধা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণা কার্যক্রম কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, তা জানতে চান সংসদ সদস্য।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর দিতে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য নোটিশ দিলে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করে উত্তর দেওয়া হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ