ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ওই সময়ের নির্যাতনের কিছু স্মৃতি ও চিহ্ন এখনও বহন করছেন প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়ের নির্যাতনের প্রভাব এখনও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, তারেক রহমান নিজেই অতীতের দুঃসহ দিনগুলো মনে রাখতে চান না। প্রতিশোধের রাজনীতিতে না গিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন রুমন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, অতীতের ঘটনাগুলোর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই পুরোনো কষ্টের স্মৃতি পেছনে রেখে দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।
বিএনপির অতীতের রাজনৈতিক সময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুমন অভিযোগ করেন, দলটি সরকার পরিচালনার সময়ও তারেক রহমানকে হেয় করার উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হয়েছে। এসব বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জনগণকে রাষ্ট্রের ক্ষমতার মূল উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজেদের অতীতের কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে রুমন বলেন, গত ১৯ বছর ধরে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালন করা হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের সময় এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নানা ধরনের চাপ, হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, ওই সময় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অনেকটা গোপনে কর্মসূচির আয়োজন করা হতো। অনুষ্ঠান সম্পর্কে সাংবাদিকদেরও কয়েক ঘণ্টা আগে জানানো হতো। বিভিন্ন সাংবাদিকের সহযোগিতার কারণে তখন কর্মসূচিগুলো মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ