ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতিতে নিম্ন আয়ের দেশগুলো চাপে: আইএমএফ প্রধান

যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতিতে নিম্ন আয়ের দেশগুলো চাপে: আইএমএফ প্রধান
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন আয়ের দেশগুলো। এসব দেশকে সহায়তা করা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অন্যতম দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী পর্বে সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ, যুদ্ধের প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সম্মেলনে জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, এআইয়ের সম্ভাবনা এবং এশিয়ার অর্থনৈতিক গতিশীলতা আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। অর্থনীতিতে এআইয়ের প্রভাবও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংঘাতের ফলে তেল ও গ্যাস সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে।

এদিকে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর উচ্চ সরকারি ঋণ এবং বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সম্মেলনজুড়ে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে। এর ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এআইয়ের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন আইএমএফ প্রধান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো স্বীকার করেছে। তবে অর্থনীতির অগ্রগতির জন্য একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিষয়টি বোঝাতে জর্জিয়েভা বলেন, “যখন আমরা প্রবৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট চালিকাশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, তখন তা এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার মতো।”

এআইয়ের দ্রুত বিস্তার ও এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত এআই মডেলগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সম্মেলনে গুরুত্ব পায়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা এ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

ব্যাংককে এআই কোম্পানি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করা হলে তার সুফল মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়।

সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও তা ধরে রাখতে মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ, যুদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব ঝুঁকি সামলাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ট্যাগ : অর্থনীতি আইএমএফ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতিতে নিম্ন আয়ের দেশগুলো চাপে: আইএমএফ প্রধান

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন আয়ের দেশগুলো। এসব দেশকে সহায়তা করা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অন্যতম দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী পর্বে সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ, যুদ্ধের প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সম্মেলনে জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, এআইয়ের সম্ভাবনা এবং এশিয়ার অর্থনৈতিক গতিশীলতা আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। অর্থনীতিতে এআইয়ের প্রভাবও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংঘাতের ফলে তেল ও গ্যাস সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে।

এদিকে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর উচ্চ সরকারি ঋণ এবং বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএমএফ। সম্মেলনজুড়ে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে। এর ফলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এআইয়ের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন আইএমএফ প্রধান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো স্বীকার করেছে। তবে অর্থনীতির অগ্রগতির জন্য একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিষয়টি বোঝাতে জর্জিয়েভা বলেন, “যখন আমরা প্রবৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট চালিকাশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, তখন তা এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার মতো।”

এআইয়ের দ্রুত বিস্তার ও এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত এআই মডেলগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সম্মেলনে গুরুত্ব পায়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা এ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

ব্যাংককে এআই কোম্পানি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করা হলে তার সুফল মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়।

সম্মেলনের আলোচনায় উঠে এসেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও তা ধরে রাখতে মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ, যুদ্ধ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব ঝুঁকি সামলাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ