সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করেছে পাকিস্তান। গত ২৭ আগস্ট ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল-সাবাহ ইসলামাবাদ সফর করেন। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফের সঙ্গে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
কুয়েতের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই চুক্তির লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো। এর আওতায় সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অপারেশনাল সমন্বয় জোরদার করা হবে।
চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
পাকিস্তান ও কুয়েত উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। সংঘাতের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে পাকিস্তান ও কুয়েতের এই নতুন চুক্তি কোনো সামরিক জোট বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অপর দেশ বাধ্যতামূলকভাবে সামরিকভাবে সহায়তা করবে, এমন কোনো শর্ত এতে নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কাঠামো। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কুয়েতের সঙ্গে এই চুক্তি হওয়ায় বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের এই উদ্যোগকে সরাসরি মক্কা চুক্তির অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়িয়ে নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বহুমুখী করার চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে কুয়েতের সামরিক সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরে প্রশিক্ষণ, সামরিক পরামর্শ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইসলামাবাদের ভূমিকা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান নিরাপত্তা সম্পর্ক থেকে সরে যাচ্ছে। বরং তারা একাধিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজেদের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্যসমূহ