সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানের তেলের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে সমুদ্রে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল আটকে রয়েছে।
সোমবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, চীন ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করলেও সমুদ্রে আটকে থাকা এই তেলের মজুত একসময় শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। চীন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও নিষেধাজ্ঞার চাপ অব্যাহত রাখার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিংয়ের ইরানি তেল আমদানির পরিমাণ কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টে চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৩৪ হাজার ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। বছরের শুরুতে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল।
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে গত ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইরানের আর্থিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। তার দাবি, অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েই তেহরান সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের প্রধান আয়ের উৎস তেল রপ্তানিতেও চাপ বাড়াতে চাইছে। এর মাধ্যমে তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: শাফাক নিউজ
মন্তব্যসমূহ