চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশই পূর্বের নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়—দুই ক্ষেত্রেই আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জুন–মে মেয়াদের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণ পাওয়া গেছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর বিপরীতে পূর্বের ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার। ফলে নিট অর্থপ্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার, অর্থাৎ মোট অর্থের প্রায় ৮৯.২৮ শতাংশই পরিশোধে চলে গেছে।
এ সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতিও কমেছে। চলতি অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২৬ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার কম। অনুদান প্রতিশ্রুতিও কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারে।
অর্থছাড়ের ক্ষেত্রেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরে ১১ মাসে অর্থছাড় হয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১০৩ কোটি ডলারের বেশি কম।
অন্যদিকে, ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এই সময়ে সুদ পরিশোধ হয়েছে ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং আসল পরিশোধ হয়েছে ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেগা প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে নেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় এখন পরিশোধের চাপ বাড়ছে, যা সামগ্রিক বৈদেশিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।