ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেপাল-তিব্বত বিপর্যয়ে মৃত্যু বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

নেপাল-তিব্বত বিপর্যয়ে মৃত্যু বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক। দুর্যোগের ছয় দিন পর সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। 

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। 

দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপালে উদ্ধারকাজে ২০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকালের হালনাগাদ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারে শত শত উদ্ধার অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। 

উদ্ধারকারীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ কর্মীর এখনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের কাছে পৌঁছাতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ধ্বংসস্তূপ ও টানেল অতিক্রম করে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। 

নিখোঁজদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থার সদস্যরাও রয়েছেন। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ জন পুলিশ সদস্য, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৪ জন শুল্ক কর্মকর্তা এবং তিনজন অভিবাসন কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় ১২৭ জন নেপালি যাত্রীও রয়েছেন। 

সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।  

তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশিরা অন্তত ২৩টি দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, জার্মানি, রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। 

নেপাল ও চীনের সর্বশেষ হিসাব একত্র করলে এই বিপর্যয়ে মোট ৯১৯ জনের মৃত্যু এবং ৪ হাজার ৭৯৩ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে মোট ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক। তবে ব্যাপক উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলতে থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। 

চীনের গিরং এলাকায় উদ্ধারকাজে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সহায়তায় শত শত যানবাহন এবং হাজার হাজার উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। 

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভয়াবহ এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। বরফ, পাথর, পানি ও কাদার প্রবল স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে নেমে এসে সীমান্তবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো তছনছ করে দেয়। চীনা কর্তৃপক্ষও গিরংয়ের বিপর্যয়কে বরফ-পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট বলে জানিয়েছে। 

দুর্যোগের ছয় দিন পরও নিখোঁজ কয়েক হাজার মানুষের সন্ধান না মেলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ট্যাগ : নেপাল চীন নেপাল বন্যা তিব্বত

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নেপাল-তিব্বত বিপর্যয়ে মৃত্যু বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক। দুর্যোগের ছয় দিন পর সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। 

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। 

দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপালে উদ্ধারকাজে ২০ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকালের হালনাগাদ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারে শত শত উদ্ধার অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। 

উদ্ধারকারীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের হিসাবে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ কর্মীর এখনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের কাছে পৌঁছাতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ধ্বংসস্তূপ ও টানেল অতিক্রম করে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। 

নিখোঁজদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি সংস্থার সদস্যরাও রয়েছেন। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ জন পুলিশ সদস্য, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৪ জন শুল্ক কর্মকর্তা এবং তিনজন অভিবাসন কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় ১২৭ জন নেপালি যাত্রীও রয়েছেন। 

সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।  

তিব্বতে নিখোঁজ বিদেশিরা অন্তত ২৩টি দেশের নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, জার্মানি, রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। 

নেপাল ও চীনের সর্বশেষ হিসাব একত্র করলে এই বিপর্যয়ে মোট ৯১৯ জনের মৃত্যু এবং ৪ হাজার ৭৯৩ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজদের মধ্যে মোট ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক। তবে ব্যাপক উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলতে থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। 

চীনের গিরং এলাকায় উদ্ধারকাজে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সহায়তায় শত শত যানবাহন এবং হাজার হাজার উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। 

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে বরফ ও পাথরের বিশাল ধসের পর ভয়াবহ এই দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। বরফ, পাথর, পানি ও কাদার প্রবল স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে নেমে এসে সীমান্তবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো তছনছ করে দেয়। চীনা কর্তৃপক্ষও গিরংয়ের বিপর্যয়কে বরফ-পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট বলে জানিয়েছে। 

দুর্যোগের ছয় দিন পরও নিখোঁজ কয়েক হাজার মানুষের সন্ধান না মেলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকায় উদ্ধার অভিযান এখন আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ