ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লেবানন পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক চাপের মুখে ইসরায়েল

লেবানন পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক চাপের মুখে ইসরায়েল
সংগৃহীত
ফলো করুন

দক্ষিণ লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপের মুখে পড়তে পারে ইসরায়েল। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীর জন্য একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২৩ জুন) নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনায় ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি ইসরায়েলের তিনজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী মাঠপর্যায়ে সেনা পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে ‘কান’ জানায়, নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ওয়াশিংটন চাপ দিতে পারে—এ বিষয়টি ইসরায়েল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী পুনরায় মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। তবে এই ব্যবস্থায় ইরান ও কাতারের অংশগ্রহণ থাকলেও ইসরায়েলকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, ইরানের সম্পৃক্ততার কারণেই ইসরায়েলকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেলআবিবকে জানিয়েছে যে, লেবাননে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়া সামরিক অভিযান পরিচালনার পূর্বের স্বাধীনতা আর অব্যাহত থাকবে না।

হিব্রু দৈনিক ‘মাআরিভ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। ওয়াশিংটন দক্ষিণ লেবানন পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি তেলের বাজার, ইরান ইস্যু এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি জড়িত।

অন্যদিকে ইসরায়েলের আশঙ্কা, দক্ষিণ লেবানন থেকে আগাম সেনা প্রত্যাহার তাদের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং তা হিজবুল্লাহর জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, ১২ হাজারের বেশি আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

ট্যাগ : যুক্তরাষ্ট্র লেবানন মধ্যপ্রাচ্য ইসরায়েল

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লেবানন পরিস্থিতিতে নতুন কূটনৈতিক চাপের মুখে ইসরায়েল

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপের মুখে পড়তে পারে ইসরায়েল। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীর জন্য একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (২৩ জুন) নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনায় ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি ইসরায়েলের তিনজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী মাঠপর্যায়ে সেনা পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে ‘কান’ জানায়, নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ওয়াশিংটন চাপ দিতে পারে—এ বিষয়টি ইসরায়েল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এর ফলে ওইসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী পুনরায় মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। তবে এই ব্যবস্থায় ইরান ও কাতারের অংশগ্রহণ থাকলেও ইসরায়েলকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, ইরানের সম্পৃক্ততার কারণেই ইসরায়েলকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটন সম্প্রতি তেলআবিবকে জানিয়েছে যে, লেবাননে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়া সামরিক অভিযান পরিচালনার পূর্বের স্বাধীনতা আর অব্যাহত থাকবে না।

হিব্রু দৈনিক ‘মাআরিভ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। ওয়াশিংটন দক্ষিণ লেবানন পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখানে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি তেলের বাজার, ইরান ইস্যু এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি জড়িত।

অন্যদিকে ইসরায়েলের আশঙ্কা, দক্ষিণ লেবানন থেকে আগাম সেনা প্রত্যাহার তাদের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং তা হিজবুল্লাহর জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, ১২ হাজারের বেশি আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ