পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবন্দি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদ। ইমরানের মুক্তির দাবি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।
রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকা ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবি জানিয়ে এর আগে বিশ্বের বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এবার সরাসরি ইমরানের মুক্তির দাবি তুললেন তার সাবেক সতীর্থ মিয়াঁদাদ।
এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মিয়াঁদাদ বলেন, তাদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ ছিল না। কাউন্টি ক্রিকেট থেকে শুরু করে পাকিস্তান জাতীয় দল পর্যন্ত তারা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলেছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কখনো কোনো রকম শত্রুতা ছিল না। আমরা বছরের পর বছর একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি। পাকিস্তানের হয়ে একসঙ্গে খেলেছি এবং দুজনেই দুজনের নেতৃত্বে মাঠে নেমেছি।”
ইমরানের কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, ইমরানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন এবং তার সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে বলে মনে করেন।
মিয়াঁদাদ বলেন, ইমরান খান পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তার মতে, ইমরানের মুক্তি দিলে দেশের কোনো ক্ষতি হবে না।
তিনি বলেন, “ইমরানকে মুক্তি দিলে সমস্যা কী? আমাকে কেউ কি বুঝিয়ে বলবেন? ইমরান পাকিস্তানের জন্য অনেক কিছু করেছে। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি। সে অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ।”
সমস্যার সমাধানে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, সব পক্ষের উচিত বসে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা।
তিনি বলেন, ইমরান পাকিস্তানের জাতীয় নায়ক এবং তার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা উচিত। জেলের ভেতরে তার কোনো ক্ষতি হলে পুরো দেশ এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইমরান খানের পরিস্থিতি নিয়ে এর আগে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারসহ আরও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ইমরানের প্রতি যথাযথ আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তার পরিবার ও দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কারাগারে তার পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এসব অভিযোগ নিয়ে পাকিস্তানে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ইমরান খানের দল পিটিআইও দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
মন্তব্যসমূহ