চলতি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ঘটতে যাচ্ছে আগামী ২৭-২৮ আগস্ট। পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করলে পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে চন্দ্রগ্রহণ সৃষ্টি হয়। এবারের গ্রহণে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ পৃথিবীর গভীর ছায়া বা আমব্রার মধ্যে প্রবেশ করবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের ডিস্কের ৯৬ দশমিক ৩ শতাংশ অংশ আমব্রার ভেতরে থাকবে।
গ্রিনিচ মান সময় ২৮ আগস্ট ভোর ৪টা ১৩ মিনিটের দিকে গ্রহণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি সকাল ১০টা ১৩ মিনিটের কাছাকাছি। তবে বাংলাদেশসহ এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল থেকে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে না। মূলত আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মহাজাগতিক দৃশ্যটি দেখা যাবে।
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের মতো এবার পুরো চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে যাবে না। চাঁদের একটি অংশ আলোকিতই থাকবে। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো ছড়িয়ে ও প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ছায়াচ্ছন্ন অংশে পৌঁছানোর কারণে সেখানে তামাটে বা লালচে আভা দেখা যেতে পারে।
নাসা জানিয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের ব্যাসের প্রায় ৯৩ শতাংশ অংশ পৃথিবীর আমব্রার মধ্যে থাকবে। আর চাঁদের ডিস্কের ক্ষেত্রফলের হিসাবে ছায়ার আওতায় থাকবে প্রায় ৯৬ শতাংশ। এই পার্থক্যের কারণ হলো গ্রহণের গভীরতা বোঝাতে দুটি ভিন্ন পরিমাপ ব্যবহার করা হয়।
চন্দ্রগ্রহণটি কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাবে। তবে গভীর আংশিক পর্যায় তুলনামূলকভাবে কম সময় স্থায়ী হবে। এ সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর বাঁকা ছায়া ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখা যাবে।
এর আগে ১২ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বছরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে। এর মাত্র দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পরই এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ঘটছে। একই গ্রহণ মৌসুমে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কাছাকাছি সময়ে ঘটতে পারে, কারণ এ সময় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের অবস্থান গ্রহণের উপযোগী বিন্যাসে আসে।
সূর্যগ্রহণের বিপরীতে চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা নিরাপদ। চাইলে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়ার অগ্রসর হওয়ার দৃশ্য আরও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
মন্তব্যসমূহ