ইরানের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র ও প্রক্সি বাহিনীর হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নিলে ওয়াশিংটন সম্প্রতি নেওয়া ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বাতিল করবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ শেষ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-হাদাস ও আল-আরাবিয়া এ তথ্য প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের জেরুসালেম পোস্টও বিষয়টি জানিয়েছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মাধ্যমে প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছেছে। সম্প্রতি এক দিনের সফরে তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও সিদ্ধান্তমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ সময় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
ইসলামাবাদ এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত জুনে দুই দেশের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারকের কয়েকটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় আনার লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই সময় শত্রুতা কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
মোহসেন রেজায়ি বৈঠকে আসিম মুনিরকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি নিয়ে তেহরানে অভ্যন্তরীণ আলোচনা হবে। আলোচনা শেষে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দেওয়া হতে পারে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম। মঙ্গলবার অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ওয়াশিংটন বর্তমানে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরানকে লক্ষ্য করে সম্প্রতি নতুন নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। পাল্টা জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর এপ্রিলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সরাসরি লড়াই কিছুটা থামে।
পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জুলাইয়ে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানমুখী ও ইরান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপের পাশাপাশি ইরানের ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে।
একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অবরোধ শেষ করার প্রস্তাব সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নতুন এক কূটনৈতিক দরকষাকষির পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র : গালফ নিউজ
মন্তব্যসমূহ