উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সমস্যা মোকাবিলা এবং কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিয়ানের মধ্যে ফোনালাপ হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
ফোনালাপে দুই মন্ত্রী উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি এবং কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়।
তবে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার জোটের স্বার্থ রক্ষায় ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রুবিও।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
সম্প্রতি ট্রাম্পও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর আগে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে একাধিক শীর্ষ বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের সময় কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী ট্রাম্প।
রুবিও ও চো হিয়ানের ফোনালাপে উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি শুল্ক, বিনিয়োগ, দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও সিউলের নতুন এই সমন্বয় এমন সময়ে সামনে এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ