ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বা কারও মৌখিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক কৃষককে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে আটক এবং সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ আগস্ট থেকে রানিনগর থানা পুলিশের হাতে আটক থাকা সাহিদুল শেখকে কেন এবং কোন প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশি নাগরিক আখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, সাহিদুল কোনো বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন এবং বিশেষ অভিযানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে। এমনকি সাহিদুল নিজেও অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করে পুলিশ।

তবে শুনানিকালে আদালত জানতে চান, আটক ব্যক্তি যদি বিদেশি নাগরিকই হন, তবে তাঁর কাছে ভারতের ভোটার আইডি কার্ড, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড কীভাবে রয়েছে? জবাবে সরকারি কৌঁসুলি দাবি করেন, এসব পরিচয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং সাহিদুল যাকে নিজের বাবা দাবি করেছেন, সেই পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে অস্বীকার করেছেন।

এর জবাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ দেন, পরিবারের সদস্যদের কেবল কিছু মৌখিক বক্তব্য কারও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য চূড়ান্ত ও অকাট্য প্রমাণ হতে পারে না। এছাড়া বিদেশি নিবন্ধন দপ্তরের (এফআরও) সামনে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিচারপতি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘১৯৭০-এর দশকে ঠিক কত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন? পরিবারের সদস্যদের কিছু বিচ্ছিন্ন দাবির ওপর ভিত্তি করে কি তাঁদের সবাইকে এভাবে বহিষ্কার করা সম্ভব?’

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত সাহিদুল শেখকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার পূর্ববর্তী আদেশ (২৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ) পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি আগামী ১৪ অক্টোবর উপযুক্ত বেঞ্চে অধিকতর শুনানির জন্য প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পেশায় কৃষক সাহিদুল মুর্শিদাবাদের দুবাপাড়ায় স্ত্রী দেজিনা বিবি ও তিন সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট গভীর রাতে পুলিশ কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাঁর স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং তারপর থেকে পরিবারকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ট্যাগ : কলকাতা হাইকোর্ট বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বা কারও মৌখিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক কৃষককে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী সন্দেহে আটক এবং সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ আগস্ট থেকে রানিনগর থানা পুলিশের হাতে আটক থাকা সাহিদুল শেখকে কেন এবং কোন প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশি নাগরিক আখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল দাবি করেন, সাহিদুল কোনো বৈধ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন এবং বিশেষ অভিযানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে। এমনকি সাহিদুল নিজেও অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করে পুলিশ।

তবে শুনানিকালে আদালত জানতে চান, আটক ব্যক্তি যদি বিদেশি নাগরিকই হন, তবে তাঁর কাছে ভারতের ভোটার আইডি কার্ড, আধার কার্ড ও প্যান কার্ড কীভাবে রয়েছে? জবাবে সরকারি কৌঁসুলি দাবি করেন, এসব পরিচয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং সাহিদুল যাকে নিজের বাবা দাবি করেছেন, সেই পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে অস্বীকার করেছেন।

এর জবাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ দেন, পরিবারের সদস্যদের কেবল কিছু মৌখিক বক্তব্য কারও বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নির্ধারণের জন্য চূড়ান্ত ও অকাট্য প্রমাণ হতে পারে না। এছাড়া বিদেশি নিবন্ধন দপ্তরের (এফআরও) সামনে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিচারপতি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘১৯৭০-এর দশকে ঠিক কত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন? পরিবারের সদস্যদের কিছু বিচ্ছিন্ন দাবির ওপর ভিত্তি করে কি তাঁদের সবাইকে এভাবে বহিষ্কার করা সম্ভব?’

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত সাহিদুল শেখকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার পূর্ববর্তী আদেশ (২৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশ) পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি আগামী ১৪ অক্টোবর উপযুক্ত বেঞ্চে অধিকতর শুনানির জন্য প্রেরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পেশায় কৃষক সাহিদুল মুর্শিদাবাদের দুবাপাড়ায় স্ত্রী দেজিনা বিবি ও তিন সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট গভীর রাতে পুলিশ কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাঁর স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং তারপর থেকে পরিবারকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ