ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ডলারের কালোবাজারির দায় বৈধ মানি চেঞ্জারদের নয়: এমসিএবি

ডলারের কালোবাজারির দায় বৈধ মানি চেঞ্জারদের নয়: এমসিএবি
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ডলারের কালোবাজারি ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য বৈধ মানি চেঞ্জারদের দায়ী না করে প্রকৃত কারসাজিকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এমসিএবির সভাপতি এম এস জামান। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমসিএবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে বলেন, বর্তমানে ১২৮ টাকা বা তার বেশি দরে যারা ডলার কেনাবেচা করছেন, তাদের অধিকাংশই লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার নন। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডলারের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানি চেঞ্জার বৈধভাবে ও সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অবৈধ মানি চেঞ্জিং প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গৌতম দে জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে নির্ধারিত মার্জিন যোগ করে ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, নির্ধারিত দরের বাইরে ডলার লেনদেন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বৈধ মানি চেঞ্জাররা। গত কয়েক দিন ধরে এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগও তোলা হয়। গৌতম দে বলেন, ব্যাংকগুলো বিদেশগামী যাত্রীদের ডলার এনডোর্সমেন্ট করলেও অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী নগদ ডলার দিতে পারে না। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছেন।

তিনি আরও বলেন, একসময় ডলারের দাম ৪২ টাকা থাকলেও যাত্রীদের জন্য এক হাজার ডলার পর্যন্ত এনডোর্সমেন্টের সুযোগ ছিল। বর্তমানে ডলারের দাম অনেক বেড়ে গেলেও সীমা ২ হাজার ডলারে রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় যথেষ্ট নয়।

এমসিএবির পক্ষ থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ডলারের বাজারে কারসাজি ও কালোবাজারি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং টিম গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে।

গৌতম দে বলেন, সংগঠনটিকে প্রয়োজনীয় তদারকি ক্ষমতা ও ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হলে বাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।

এ ছাড়া ভ্যাট বা আয়কর ফাঁকির অভিযোগে বৈধ মানি চেঞ্জারদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলেন, প্রমাণ ছাড়া বৈধ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা উচিত নয়।

এমসিএবির নেতারা বলেন, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রকৃত কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বৈধ মানি চেঞ্জারদের হয়রানি বন্ধ, ব্যাংক ও মানি চেঞ্জারদের মধ্যে বৈষম্য দূর এবং কার্যকর যৌথ মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সমস্যাগুলোর সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করে সংগঠনটি। এক সপ্তাহের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


ডলারের কালোবাজারির দায় বৈধ মানি চেঞ্জারদের নয়: এমসিএবি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ডলারের কালোবাজারি ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য বৈধ মানি চেঞ্জারদের দায়ী না করে প্রকৃত কারসাজিকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এমসিএবির সভাপতি এম এস জামান। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমসিএবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে বলেন, বর্তমানে ১২৮ টাকা বা তার বেশি দরে যারা ডলার কেনাবেচা করছেন, তাদের অধিকাংশই লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার নন। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডলারের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানি চেঞ্জার বৈধভাবে ও সৎভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অবৈধ মানি চেঞ্জিং প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গৌতম দে জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে নির্ধারিত মার্জিন যোগ করে ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, নির্ধারিত দরের বাইরে ডলার লেনদেন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বৈধ মানি চেঞ্জাররা। গত কয়েক দিন ধরে এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগও তোলা হয়। গৌতম দে বলেন, ব্যাংকগুলো বিদেশগামী যাত্রীদের ডলার এনডোর্সমেন্ট করলেও অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী নগদ ডলার দিতে পারে না। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছেন।

তিনি আরও বলেন, একসময় ডলারের দাম ৪২ টাকা থাকলেও যাত্রীদের জন্য এক হাজার ডলার পর্যন্ত এনডোর্সমেন্টের সুযোগ ছিল। বর্তমানে ডলারের দাম অনেক বেড়ে গেলেও সীমা ২ হাজার ডলারে রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় যথেষ্ট নয়।

এমসিএবির পক্ষ থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ডলারের বাজারে কারসাজি ও কালোবাজারি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক, মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং টিম গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে।

গৌতম দে বলেন, সংগঠনটিকে প্রয়োজনীয় তদারকি ক্ষমতা ও ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হলে বাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা আরও সহজ হবে।

এ ছাড়া ভ্যাট বা আয়কর ফাঁকির অভিযোগে বৈধ মানি চেঞ্জারদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলেন, প্রমাণ ছাড়া বৈধ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা উচিত নয়।

এমসিএবির নেতারা বলেন, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রকৃত কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বৈধ মানি চেঞ্জারদের হয়রানি বন্ধ, ব্যাংক ও মানি চেঞ্জারদের মধ্যে বৈষম্য দূর এবং কার্যকর যৌথ মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সমস্যাগুলোর সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করে সংগঠনটি। এক সপ্তাহের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ