ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জনের বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোরে চালানো এ হামলায় শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, সলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে হামলার পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবনটির ওপরের কয়েকটি তলা ধসে যায় এবং ওই এলাকায় অন্তত সাতজন নিহত হন।
হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। জরুরি বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
মেয়র ক্লিচকো জানান, রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকাতেও হামলার প্রভাব পড়েছে। আবাসিক ভবনের পাশাপাশি একটি গুদাম, স্কুল ও শিশু হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর কিয়েভের প্রায় ৯০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। পরে ধাপে ধাপে বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার সময় কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা থেকে মানুষকে বের করে আনছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর দাবি, সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী স্থাপনা, অস্ত্র মজুত কেন্দ্র ও লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান হামলার সংখ্যা বেড়েছে। কিয়েভের দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সীমিত থাকায় রাশিয়া এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। দেশটি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে রুশ হামলার সময় একটি ড্রোন রোমানিয়ার ভূখণ্ডে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আরেকটি ড্রোন মলদোভার আকাশসীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব পায়নি তারা। তবে প্রয়োজন হলে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে মস্কো।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ