ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অনুমোদন প্রক্রিয়া ‘সহজ’ করছে সরকার, ১৪ দিনে ব্যবসা শুরু করা যাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

অনুমোদন প্রক্রিয়া ‘সহজ’ করছে সরকার, ১৪ দিনে ব্যবসা শুরু করা যাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে তা কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি (Letter of Credit) খুলতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ শীর্ষক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সেশনের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে না দেখে বরং এটি একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য দেশকে প্রস্তুত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা শুধু অলংকারিক ভাষা নয়; বরং বর্তমান সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশ, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

তিনি বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যে দেশগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে। বাংলাদেশ সরকারও এই রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই সেল সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

ট্যাগ : বাণিজ্য জাতীয়

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অনুমোদন প্রক্রিয়া ‘সহজ’ করছে সরকার, ১৪ দিনে ব্যবসা শুরু করা যাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমাতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ব্যবসা শুরু করতে যেখানে আগে প্রায় এক বছর সময় লাগত, সেখানে তা কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে একটি কোম্পানি ১৫তম দিনেই যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি (Letter of Credit) খুলতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ শীর্ষক ডিব্রিফিং সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সেশনের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু অতিরিক্ত সময় পাওয়ার বিষয় হিসেবে না দেখে বরং এটি একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই রূপান্তরকালকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ, উৎপাদনভিত্তি বহুমুখীকরণ এবং এলডিসি-উত্তর বাস্তবতার জন্য দেশকে প্রস্তুত করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি উপস্থাপিত বাজেটে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা শুধু অলংকারিক ভাষা নয়; বরং বর্তমান সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণের মূল ভিত্তি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি প্রতিপালন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খল এখন পরিবেশ, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, জলবায়ু সহনশীলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে গড়ে উঠছে।

তিনি বলেন, এই নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় যে দেশগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় ঘটাতে পারবে, তারাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে। বাংলাদেশ সরকারও এই রূপান্তরকে সমর্থন করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই সেল সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ