১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ আজকের মতো শুনানি মুলতবি করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আবুল কালাম আযাদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে দেশে ফিরে তৎকালীন সরকারের কাছে আবেদন করলে তার মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। সেই আদেশের ভিত্তিতেই তিনি আপিল বিভাগে তার দণ্ড চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছেন।
সম্প্রতি ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন আযাদ। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারা অনুযায়ী রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। তাই দীর্ঘ সময় পর করা এই আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে।
আবুল কালাম আযাদের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে থাকা ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ নীতির ভিত্তিতে আপিলের গ্রহণযোগ্যতা চাওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, যেখানে সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান রয়েছে, সেখানে ওই অনুচ্ছেদের মাধ্যমে আপিলের সময়সীমা অতিক্রম করার সুযোগ নেই।
আপিলকারী পক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারির রায়ের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৬ জুলাই আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এতে আপিল করতে ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ১৭ আগস্ট পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন। তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরেন আবুল কালাম আযাদ। পরে মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এখন সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিলের গ্রহণযোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয়ে ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগে শুনানি হবে।
মন্তব্যসমূহ