ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত করা কিংবা কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজেই বাদী হয়ে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের সোমেশ্বরী হলরুমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
কায়সার কামাল বলেন, “আমি যদি গ্রামে গিয়ে কখনো শুনি যে, আমি ৫০০ টাকা দিয়েছি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বা ২০০ টাকা দিয়েছি নামটা উঠানোর জন্য তখন ওই এলাকায় কে দায়িত্বে ছিল তাকে খুঁজে বের করব। আমি আইনজীবী হিসেবে নিজে বাদী হয়ে মামলা করব। আমি আমার ওয়াদা রক্ষা করব। তবে আমি চাইনা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক।”
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে চার কোটির বেশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে হেলথ কার্ড দেওয়ার কথাও রয়েছে। এসব কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বরদাশত করা হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
আগের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন ডেপুটি স্পিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কলমাকান্দার লেংগুরায় ভবনের মালিক ব্যক্তিও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। এমনকি ওই ব্যক্তির ঈশ্বরগঞ্জে বিয়ে হওয়া মেয়ের নামেও ফ্যামিলি কার্ড হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব অনিয়মের কারণে নতুন করে নিয়মের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চলছে বলে জানান কায়সার কামাল।
দুর্গাপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য মোট ১০৭ জন কাজ করবেন। তাদের মধ্যে ১০ জন সুপারভাইজার এবং ৯৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী। এই কর্মীদের সততা ও নিরপেক্ষতার ওপর কার্যক্রমের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার।
তথ্য সংগ্রহকারীদের দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেন তিনি। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে অসচ্ছল মানুষদের দিয়ে শুরু করার আহ্বান জানান।
কায়সার কামাল বলেন, “শুরু করবেন সর্বনিম্ন জায়গা থেকে-কুঁড়েঘর থেকে অথবা ঘর নেই, এমন ছাপড়া ঘর থেকে। আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে উঠবেন। হয়তো অনেক বাধা আসতে পারে-অমুকেরটা নিয়েছ, আমারটা নাওনি কেন? কোনো বাধা শুনবেন না।”
তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তাকে হাজির-নাজির রেখে সততা ও মেধার সঙ্গে প্রকৃত উপকারভোগীদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমি চাই আমাদের এই দুর্গাপুরের একজনও দরিদ্র মানুষ যেন ফ্যামিলি কার্ড থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই দায়িত্ব আপনাদের। আশা করছি আপনারা ঈমানের সঙ্গে দায়িত্বটা পালন করবেন।”
সুপারভাইজারদেরও তথ্য সংগ্রহকারীদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করার পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্য পরে ক্রস-চেক করার নির্দেশনা দেন তিনি। তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা প্রকৃত উপকারভোগী কি না, তা যাচাই করতে বলেন কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, “কে আমাকে ভোট দিয়েছেন সেটা আমি দেখব না। সবাই আমাকে ভোট দিয়েছেন। সবাই এই এলাকার নাগরিক, সবাই এই রাষ্ট্রের নাগরিক। প্রত্যেক নাগরিকের হক আদায়ের জন্য সরকার কাজ করছে। ঠিক তেমনিভাবে আমি দুর্গাপুর-কলমাকান্দার প্রত্যেক নাগরিকের হক আদায়ের জন্য কাজ করছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারেক হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূইয়াসহ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ