বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরাও এর প্রভাব থেকে রেহাই পাননি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার পাওনা অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টে জমা থাকা অর্থ দুর্বল বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করে আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছিল। এর ফলে ২০২২ সাল থেকে টানা চার বছর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে ১ লাখ ২৩ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
শিক্ষকদের অবসর সুবিধার ইতিহাস তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কর্মজীবনের শেষে শিক্ষকরা যেন অর্থকষ্টে না পড়েন, সেই উদ্দেশ্যে ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালে সরকার গঠনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অবসর সুবিধা চালু করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব ছিলেন। তার সরকারের সময় দেশে নারীদের উপবৃত্তি এবং বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসরণীয় মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
অবসরভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পেতে গিয়ে অতীতে শিক্ষকদের দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কোথাও কোথাও অর্থ পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান বলেন, একজন শিক্ষককে তার প্রাপ্য অর্থ পেতে গিয়ে হয়রানি বা অনিয়মের মুখে পড়তে হওয়া জাতীয়ভাবে লজ্জা ও দুর্বলতার বিষয়। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষককে অবসর সুবিধার টাকা তুলতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে নিজেদের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া জানান।
মন্তব্যসমূহ