দেশে নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাংস রফতানির সুযোগ সম্প্রসারণও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দফতরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি খামারিদের আয় বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খাতটি পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে কাজ শুরু করেছে। গত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করেছেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রণালয়ের কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মান নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পশুখাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, খামারি, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও রোগমুক্ত প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিত করতে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জীবিকা নির্বাহে ২৪ কোটির বেশি টাকার বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এর পাশাপাশি মাংস ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি, রফতানির নতুন বাজার তৈরি এবং দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
মন্তব্যসমূহ