২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এর আগে তিনি জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে অংশ নেন।
ইসি সচিব জানান, কোনো সংসদ সদস্য অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ে অধিবেশন কক্ষে পৌঁছাতে দেরি করতে পারেন—এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।
প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে। একটি থাকবে মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট। মুড়ি অংশে প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত ঘর থাকবে। মূল ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকবে। সেখানে ভোটার তার পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।
সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুবিধার জন্য অধিবেশন কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে। ভোটাররা যেকোনো একটি বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিতে পারবেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টায় অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট বাক্সের সামনে ভোট গণনা শুরু হবে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি গণনা দল গঠন করা হবে। তারা ব্যালট পেপার বাছাই ও গণনার মাধ্যমে ফলাফল প্রস্তুত করবেন।
ইসি সচিব বলেন, মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধ ও কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন, তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনকর্তা হিসেবে অধিবেশন কক্ষেই প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন।
এরপর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
এদিকে ভোটগ্রহণের পুরো কার্যক্রম সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধিবেশন কক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচারের সুবিধা থাকবে। সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থানও রাখা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ২০ কর্মকর্তাকে বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
অন্যদিকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট বা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে সদস্যপদ হারানোর বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ