গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন শেষ হলেও প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ায় এখনো চালু হয়নি হাসপাতালটি।
প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে স্থানীয়দের দেওয়া জমিতে নির্মিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু না হওয়ায় আশপাশের তিন উপজেলার মানুষ মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত এই কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ করা।
স্থানীয়দের দেওয়া ৪৩ শতাংশ জমির ওপর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সেখানে রোগীর বেড, জেনারেটর, এসি, ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র স্থাপন করা হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রুপালী এন্টারপ্রাইজ হাসপাতালটি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে। পরে এটি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাসপাতালটি চালু হলে দমদমা, নলগাঁও, চিনাশুকানিয়া, দরপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পেতেন। বর্তমানে তাদের চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে যেতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা জমি দিয়েছেন। আধুনিক ভবন ও সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও এখন পর্যন্ত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখা মিলছে না।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সহকারী নার্সিং এটেনডেন্ট জোবাইদা আক্তার রিমা জানান, তিনি ডেপুটেশনে এখানে কর্মরত থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। একা হাসপাতালে অবস্থান করাও তার জন্য নিরাপদ মনে হচ্ছে না।
গাজীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের জুন মাসে হাসপাতালটি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নুরী বলেন, প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত অনুমতি পাওয়া গেলে হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে।